1. admin@kalomkantho.net : admin :
সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আটঘরিয়ায় ইউপি নির্বাচনে নৌকাপ্রত্যাশী প্রবীণ রাজনীতিবিদ মহসিন মোল্লা ঝিকরগাছা উপজেলায় নৌকা পেল যারা শেখ রাসেলের জন্মদিনে ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের নানা কর্মসূচি ঝিকরগাছায় ৭৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু ঝিকরগাছা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ঝিকরগাছার গরিবের ডাক্তার হাবিবুরের মৃত্যু, সাবেক এমপি মনিরের শোক ঝিকরগাছা থানায় ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত ঝিকরগাছায় আ. লীগ নেতার মৃত্যু, স্বেচ্ছাসেবক লীগ আহ্বায়ক কালামের শোক যশোরে চাঁদাবাজির মামলায় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গ্রেফতার যুবলীগ থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে অব্যাহতি

‘ভেতরে বিষের বুলি, মুখ বুজে মুক্তো ফলাও’

  • আপডেট টাইম শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১৩০ ভিউ টাইম
‘রাষ্ট্র কুকুর নিধনে যতোটা সক্রিয়,ধর্ষক নিধনে ততটা না’
‘নারীদের নিয়তি যেন মোমের মতো গলে যাওয়া’

ইছানুর রহমান
দেশে মহামারির চেয়েও ভয়ংকর রূপে ছড়িয়ে পড়েছে ধর্ষণ।প্রতিদিন কয়েকটা করে ধর্ষণ চেষ্টা ও ধর্ষণের অভিযোগ, বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসছে। এর মধ্যে বর্তমান সবচেয়ে আলোচিত ও হৃদয় বিদারক ঘটনা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক মধ্যেবয়সী নারীকে ধর্ষণের পর উলঙ্গ করে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুক ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে সেটা জাতির বিবেক কে নাড়া দেয়। শুরু হয় ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন। প্রয়োজন হয়ে দাড়ায় ধর্ষণের শাস্তি সর্বচ্চ মৃত্যুদন্ড আইন পাশ করা। তবুও কি ধর্ষণ কোনো অংশে কমেছে? কমেনি বরং দেখা গেছে ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন করা ছেলেটাও ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে। 
নারী নির্যাতন সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন রিপোর্ট বলছে, বিশ্বের প্রায় এক তৃতীয়াংশ নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন অহরহ৷ তার ওপর পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধের যেসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, সেটাও যথার্থ নয়৷ এছাড়া বিশ্বের মোট নারীর ৭ শতাংশ নাকি জীবনের যে কোনো সময় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন৷
নারী স্বাধীনতা, নারী আন্দোলন, নারী অধিকার নিয়ে সর্বত্র আলোচনা, সমালোচনা, বক্তৃতা, অন্যদিকে বেড়ে চলেছে ধর্ষণের সংখ্যা৷ কিন্তু কেন? এর জন্য কারা দায়ী, কী করে ধর্ষণ কমিয়ে আনা সম্ভব? বা ধর্ষিতা নারীদের কী-ই বা করা উচিত? ধর্ষণের প্রতিবাদে অনেক সময় মোমবাতি জ্বালিয়ে নীরবতার কর্মসূচি নেয়া হয়। এর কারণ কী? কারণ মানুষকে জানিয়ে দেয়া যে প্রতিবাদ করে কোন লাভ হবে না। নারীকে নিরবে পুড়তে হবে মোমের মতোই। সম্পূর্ণ একা!
ধর্ষিতা নারী, ধর্ষণের পরে আরও দুইবার অন্তত ধর্ষিত হয়। প্রথমবার ধর্ষণের খবরের শিরোনাম হয়ে এলে সামাজিকভাবে অনেকেই আঙুল তুলে দেখায় তাকে! অনেকটা সেই কথিত হিটগানের মতো- ‘ও মাইয়া ও মাইয়া তুই অপরাধীরে…!’ দ্বিতীয়বার বিচারের সম্মুখীন হলে সেই নারী আরেকবার ‘বিচারিক ধর্ষণের’ শিকার হয়, যে কারণে বেশিরভাগ নারী বিচার না চেয়ে আজীবন এই পাশবিকতার স্মৃতি  নিরবে বয়ে বেড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। অনেকে আবার আত্যহত্যা করতে বাধ্য হয়।
ধর্ষণ একান্তই পুরুষকেন্দ্রিক বাস্তবতা। যে আইনে ধর্ষণের বিচার হয় সেটা ব্রিটিশরা করেছিল একশ ত্রিশ বছর আগে। ধর্ষণ এর বিচারিক আদালতে সর্বচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড পাশ হলেও বাস্তবায়ন হবে কতটুকু সেটাই দেখার অপেক্ষা! পৃথিবীর অনেক কিছুই বদলেছে কিন্তু পুরুষের ধর্ষনেচ্ছা একবারেই বদলায়নি। একেবারে নতুন করা ডিজিটাল আইনে ধর্মকে কটাক্ষ না করা, রাজনীতি বা সরকার নিয়ে গুজব না ছড়ানো কিংবা সংবাদ প্রকাশের দায়িত্বশীলতাসহ অনেক ধারা সংযোজিত হয়েছে। ধর্ষণ সম্ভবত সৃষ্টির আদিকাল থেকে অ্যানালগ ছিল, এখনও আছে! যে কারণেই হয়তো নোয়াখালির বেগমগঞ্জের ঘটনা, সিলেটের এমসি কলেজের ঘটনাগুলো বারবার ঘটে যাবে এবং যাচ্ছে!
ধর্ষণের পরে সামাজিকভাবে শুধু ধর্ষিতাকেই নিগ্রহের শিকার হতে হয়। মোমের মতো পুড়ে যাওয়াটাই হয়তো মেয়েদের নিয়তি। তাই মেয়েরা কেন রাত করে বাড়ি ফিরবে, রাতে হোটেলে যাবে কেন, কেন তাদের বুক বা পেছন বড় এসব প্রশ্ন উঠবে! প্রশ্ন উঠবে মেয়ের পোশাক নিয়ে। যখন নিয়মিত হিজাব পরা মেয়েদের একজন তনু ধর্ষিত হবে তখন ধর্ষকদের কাছে ধর্ম বা হিজাব বড় নয় এমন কথাও বলা যাবে না। বললে এদেশের নাম করা কোন অভিনেতার মতো সমালোচনা সইতে হবে! যখন কোন মেয়ে বাবা মা ভাইবোনকে বাঁচাতে গার্মেন্টে কাজ নেয়, রাতে বাসায় ফেরার পথে ধর্ষিতা হয় সেও। মেয়েদের জন্য পৃথিবীটা হয়তো আদিকাল থেকেই এমন!
যারা প্রতিবাদ করতে চান তাদের কিছু মানসিকতা হয়তো প্রকাশ পায় ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে নির্মিত হওয়া ছবিগুলোতে। ‘জেসিস গার্ল’ নামের ওয়েস্টার্ন ছবিটা  যারা দেখেছেন তারা জানেন ধর্ষণের প্রতিশোধ জেসি ও তার বান্ধবীরা কীভাবে নিয়েছিল। হানিমুনে এসে জেসি ধর্ষিত হয়েছিল গুন্ডাদের হাতে। তার স্বামীকে মেরে ফেলা হয়েছিল। ‘জেসিস গার্ল’ এর মতো ধর্ষণ ও প্রতিশোধের কাহিনী নিয়ে  ‘আই স্পিট অন ইউর গ্রেভ’ ছবিটা মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭৮ সনে। নিরিবিলি উপন্যাস লেখার জন্য একটা রুম ভাড়া নিয়েছিলেন এক লেখিকা। এখানেই গণধর্ষনের শিকার হন সেই লেখিকা। তিনি মারা যান। কিন্তু ফিরে আসে তার আত্মা। সে ধর্ষকদের মেরে প্রতিশোধ নেয়। প্রায় একই ধরনের কাহিনী নিয়ে নির্মিত হয়েছিল লাস্ট হাউজ অন দ্য লেফ্ট, ডেখ উইশ টু কিংবা দ্য ক্রো ছবিটি। দ্য ক্রো ছবিতে একজন মিউজিশিয়ান ও তার স্ত্রী বিয়ের আগের রাতে এলাকার মাস্তানদের হাতে নিগৃহীত হন। মিউজিশিয়ানের স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। পরে দুজনকেই মেরে ফেলা হয়। বছর খানেক পরে মিউজিশিয়ানের কবর থেকে উঠে আসে এক কাক। সে ধর্ষকদের মেরে প্রতিশোধ নেয়।
তবে সবচেয়ে বেশি প্রতিশোধ পরায়নতা দেখা গেছে এক হিন্দি ছবিতে। এই ছবিতে নায়িকা ধর্ষণের শিকার হবার পর যারা যারা ধর্ষণ করেছিল নায়িকা তাদের লিঙ্গ কর্তন করে দেয়! পাশবিকতা কখনোসখনো হয়তো পাশবিকতারই জন্ম দেয়। হয়তো একারণেই কেউ কেউ বলে থাকেন- খুনের বদলা খুন!
আদিম হিংস্র পাশবিকতাগুলোর মধ্যে খুন আর ধর্ষণ আজও টিকে আছে পুরোনো সেই আদিমতা নিয়েই। রাষ্ট্র তাই কুকুর নিধনে যতোটা সক্রিয় হয়, ধর্ষক নিধনে তাকে তেমন সক্রিয় মনে হয় না। ধর্ষকদের কেউ কেউ ধর্ষিতাকে বিয়ে করে, কেউ কেউ আইনের ফাঁক গলে জেল থেকে বেরিয়ে আসে। ‘আপনা মাংসে হরিণা বৈরী’র মতো নারীদের নিয়তি যেন মোমের মতো পুড়ে যাওয়ার! তাদের জীবন যেন ‘ভেতরে বিষের বুলি, মুখ বুজে মুক্তো ফলাও ’- এর মতো! 
কলমকণ্ঠ/ইছানুর

সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই কেটাগরির আরো খবর
' অনুমতি ব্যতিত কপিরাইট দণ্ডনীয় অপরাধ'
Theme Customized By kalomkantho.net